Dhaka ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভা

কোনো দেশকে প্রভাব বলয়ে আনতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নানা ছলচাতুরি প্রয়োগ করে অবাধ্য সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি ও সামরিক শাসন জারিতেও এই সাম্রাজ্যবাদীরা বড় ভূমিকা রাখে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এসব কথা বলেন। উদীচীর একাংশ আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রতিপাত্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে উদীচী।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম। সেমিনার সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ এন রাশেদা, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মামুন সিদ্দিকী সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা শাহীন রহমান আলোচক হিসেবে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের শুরুতেই মাহমুদ সেলিম রচিত প্রবন্ধটি পাঠ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ। মূল প্রবন্ধে উদীচীর একাংশের সভাপতি মাহমুদ সেলিম লিখেছেন, ‘কোনো দেশকে প্রভাব বলয়ে আনতে সাম্রাজ্যবাদ সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে। দেশে দেশে সামরিক শাসন জারি করতে সেনাবাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করে যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসন বজায় রাখে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অবাধ্য সরকারকে নানা ছলচাতুরি দিয়ে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।’
সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বলতম দেশগুলোতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ, শাস্তিমূলক বাণিজ্য শুল্ক আরোপ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সে দেশগুলোর সরকারকে ‘অসম বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করে’ বলেও মন্তব্য করেন সেলিম।
বক্তারা বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের উপর অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নির্ভরতা তৈরি করে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের জালে আবদ্ধ করা হয় যা সেই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে।
দেশে ও বিদেশে উদীচীর সাড়ে তিন শতাধিক জেলা ও শাখা সংসদে একযোগে উদযাপন করা হচ্ছে উদীচীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কেন্দ্রীয়ভাবে এ আয়োজনের সমাপনী হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। সেদিন বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত হবে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং মিলনমেলা। এবারের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ঘোর আঁধারে পথ দেখাবে আগুনের নিশান।’

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভা

আপডেট সময়: ০৪:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

কোনো দেশকে প্রভাব বলয়ে আনতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নানা ছলচাতুরি প্রয়োগ করে অবাধ্য সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি ও সামরিক শাসন জারিতেও এই সাম্রাজ্যবাদীরা বড় ভূমিকা রাখে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এসব কথা বলেন। উদীচীর একাংশ আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রতিপাত্য ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে উদীচী।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম। সেমিনার সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এ এন রাশেদা, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মামুন সিদ্দিকী সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা শাহীন রহমান আলোচক হিসেবে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের শুরুতেই মাহমুদ সেলিম রচিত প্রবন্ধটি পাঠ করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ। মূল প্রবন্ধে উদীচীর একাংশের সভাপতি মাহমুদ সেলিম লিখেছেন, ‘কোনো দেশকে প্রভাব বলয়ে আনতে সাম্রাজ্যবাদ সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে। দেশে দেশে সামরিক শাসন জারি করতে সেনাবাহিনীকে উদ্বুদ্ধ করে যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসন বজায় রাখে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অবাধ্য সরকারকে নানা ছলচাতুরি দিয়ে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।’
সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বলতম দেশগুলোতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ, শাস্তিমূলক বাণিজ্য শুল্ক আরোপ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সে দেশগুলোর সরকারকে ‘অসম বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ হতে বাধ্য করে’ বলেও মন্তব্য করেন সেলিম।
বক্তারা বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের উপর অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নির্ভরতা তৈরি করে। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণের জালে আবদ্ধ করা হয় যা সেই দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে।
দেশে ও বিদেশে উদীচীর সাড়ে তিন শতাধিক জেলা ও শাখা সংসদে একযোগে উদযাপন করা হচ্ছে উদীচীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কেন্দ্রীয়ভাবে এ আয়োজনের সমাপনী হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। সেদিন বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত হবে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং মিলনমেলা। এবারের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—‘ঘোর আঁধারে পথ দেখাবে আগুনের নিশান।’