Dhaka ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৎকারে বাধা, লাশ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভ

সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মৃতের পরিবারসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মৃত মিনা বনিক উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া মহল্লার মৃত গণেশ বণিকের স্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, রবিবার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান মিনা বণিক।
মৃত মিনা বণিকের ছেলে সন্তোষ ববুক বলেন, আমার মা রবিবার রাত ৮টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ৮টার দিকে পরিবারে সদস্য ও স্থায়ীরা লাশ সৎকারের জন্য উপজেলার ঘোষগাতী মহাশ্মাশানে নিয়ে এলে শ্মশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিকের কাছে গেলে তিনি চাবি না দিয়ে সৎকার করার কাজে বাধা দেন। লাশ নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপজেলা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে উল্লাপাড়া শ্মশানে লাশ সৎকার করা হয়।

ঝিকিরা মহল্লার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে ছিল। সেখানে আমাদের উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতো। কিন্তু গত পাঁচ বছর আগে এই মহাশ্মশানটি ঘোষগাতী মহাশ্মশান হিসেবে নাম পরিবর্তন করে একটি কমিটি গঠন করে। সেখানে সরকারি বিভিন্ন অনুদানে টাকা এলেও সেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন বাবলু ভৌমিকসহ ওই কমিটির লোকজন।
তিনি আরও বলেন, উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামকরণ করে উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতে দিতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে একজন করে লোক নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দারি জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু ভৌমিক বলেন, ঘোষগাতি মহাশ্মশানের দেখভাল করার জন্য কোনও লোকজন নেই। ঘোষগাতি শ্মশানের চাবি আমার কাছে থাকে। সকালে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া পৌর শ্মশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং দিয়েছে। যেহেতু উল্লাপাড়া পৌর শ্মশান নামে কোন শ্মশান নেই- সেই কারণে তাদের চাবিটি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যে শ্মশানের নামে মাইকিং করা হয়েছে, লাশ সেখানে নিয়ে সৎকার করো। এ কথা শুনে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা লাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে ইউএনওর প্রতিনিধি রাকিব ফোন দিলে আমি তাদেরকে শ্মশানের চাবিটি দিয়ে দেই। বর্তমানে ঘোষগাতি মহাশ্মশানের তার সৎকার করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা মহিলা মারা যায়। পরে মৃতের পরিবার মহাশ্মশানের চাবি চাইলে বাবলু ভৌমিক চাবি না দিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেয়। পরে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলে চাবি দেওয়া হয়েছে। আমার প্রতিনিধিকে দিয়ে লাশ শ্মশানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সৎকার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের আগে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে নাম করা হয়েছে। বর্তমানে এখন ঘোঁষগাতি হিন্দু মহাশ্মশান নামকরণ করা হয়েছে। আর এ নিয়েই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

সৎকারে বাধা, লাশ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভ

সৎকারে বাধা, লাশ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভ

আপডেট সময়: ০৬:০৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

সৎকারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মৃতের পরিবারসহ স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
মৃত মিনা বনিক উল্লাপাড়া উপজেলার ঝিকিড়া মহল্লার মৃত গণেশ বণিকের স্ত্রী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, রবিবার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান মিনা বণিক।
মৃত মিনা বণিকের ছেলে সন্তোষ ববুক বলেন, আমার মা রবিবার রাত ৮টার দিকে মারা যান। সোমবার সকাল ৮টার দিকে পরিবারে সদস্য ও স্থায়ীরা লাশ সৎকারের জন্য উপজেলার ঘোষগাতী মহাশ্মাশানে নিয়ে এলে শ্মশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিকের কাছে গেলে তিনি চাবি না দিয়ে সৎকার করার কাজে বাধা দেন। লাশ নিয়ে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপজেলা চত্বরে গিয়ে বিক্ষোভ করা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে উল্লাপাড়া শ্মশানে লাশ সৎকার করা হয়।

ঝিকিরা মহল্লার রাজেশ কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই মহাশ্মশানটি উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে ছিল। সেখানে আমাদের উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতো। কিন্তু গত পাঁচ বছর আগে এই মহাশ্মশানটি ঘোষগাতী মহাশ্মশান হিসেবে নাম পরিবর্তন করে একটি কমিটি গঠন করে। সেখানে সরকারি বিভিন্ন অনুদানে টাকা এলেও সেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করেন বাবলু ভৌমিকসহ ওই কমিটির লোকজন।
তিনি আরও বলেন, উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামকরণ করে উপজেলার সব হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে সৎকার করতে দিতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিতে প্রত্যেকটি গ্রাম থেকে একজন করে লোক নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দারি জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু ভৌমিক বলেন, ঘোষগাতি মহাশ্মশানের দেখভাল করার জন্য কোনও লোকজন নেই। ঘোষগাতি শ্মশানের চাবি আমার কাছে থাকে। সকালে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা উল্লাপাড়া পৌর শ্মশানের নাম উল্লেখ করে মাইকিং দিয়েছে। যেহেতু উল্লাপাড়া পৌর শ্মশান নামে কোন শ্মশান নেই- সেই কারণে তাদের চাবিটি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, যে শ্মশানের নামে মাইকিং করা হয়েছে, লাশ সেখানে নিয়ে সৎকার করো। এ কথা শুনে মৃত মিনা বণিকের ছেলেরা লাশ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে ইউএনওর প্রতিনিধি রাকিব ফোন দিলে আমি তাদেরকে শ্মশানের চাবিটি দিয়ে দেই। বর্তমানে ঘোষগাতি মহাশ্মশানের তার সৎকার করা হয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা মহিলা মারা যায়। পরে মৃতের পরিবার মহাশ্মশানের চাবি চাইলে বাবলু ভৌমিক চাবি না দিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেয়। পরে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলে চাবি দেওয়া হয়েছে। আমার প্রতিনিধিকে দিয়ে লাশ শ্মশানে পাঠানো হয়েছে। সেখানে সৎকার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের আগে উল্লাপাড়া মহাশ্মশান নামে নাম করা হয়েছে। বর্তমানে এখন ঘোঁষগাতি হিন্দু মহাশ্মশান নামকরণ করা হয়েছে। আর এ নিয়েই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।