Dhaka ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের চিৎকার আটকাতে’ উচ্চশব্দে বাজানো হয় গান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময়: ০৮:১২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৩ ভিউ টাইম
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাইম হোসেন (২০) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর অভিযুক্ত নাইম উপজেলার চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরী দোকানে কলম কেনার জন্য বের হয়। এসময় তাকে রাস্তা থেকে জোর করে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায় বখাটে নাইম হোসেন। পরে উপজেলার কামারখন্দ সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন এলাকার ‘ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’ এর ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করে ওই বখাটের পাঁচ বন্ধু।
তারা হলেন, উপজেলার জামতৈল এলাকার মো. ইমরান (২১), একই এলাকার আলমের ছেলে আকাশ (২১), নান্নু সরকারের ছেলে মো. আতিক (২৩), নাছিম উদ্দিন (২০) পিতা অজ্ঞাত এবং কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হক নয়ন (২০)।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণকালে ওই কিশোরী চিৎকার কেউ যেন শুনতে না পায় এজন্য জোরে জোরে বক্সে গান বাজিয়ে রেস্টুরেন্টের গেইটে পাহারা দেয় বখাটে নাইম হোসেনের ওই পাঁচ বন্ধু।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগে করে বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন মতোই রোববার মাদ্রাসায় যায়। মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পরেও বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি করি। হঠাৎ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মুঠোফোনে কল দিয়ে জানায়, আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে সিরাজগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকের আছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ। পরে তাকে এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ওই বখাটেরা জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি এদের কঠিন শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক পার্থ সাহা জানান, ওই কিশোরীর বিশেষ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সেটি রিপেয়ার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, জোর করে শারীরিক সম্পর্কের কারণেই বিশেষ অঙ্গ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে সাংবাদিকরা ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গেলে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিচ্ছে। সাংবাদিক দেখে তারা উত্তেজিত হয়ে চড়াও হয়। পরে পুলিশ গিয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করে।
কামারখন্দ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল আকতার বলেন, আলামত সংগ্রহের জন্য রেস্টুরেন্টটি বিকেলে বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, কিশোরীর মা বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ধর্ষণের চিৎকার আটকাতে’ উচ্চশব্দে বাজানো হয় গান

আপডেট সময়: ০৮:১২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নাইম হোসেন (২০) নামের এক বখাটের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সোমবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর অভিযুক্ত নাইম উপজেলার চর কামারখন্দ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রোববার (১৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে দশটার দিকে ওই কিশোরী দোকানে কলম কেনার জন্য বের হয়। এসময় তাকে রাস্তা থেকে জোর করে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায় বখাটে নাইম হোসেন। পরে উপজেলার কামারখন্দ সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন এলাকার ‘ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট’ এর ভিতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে সহযোগিতা করে ওই বখাটের পাঁচ বন্ধু।
তারা হলেন, উপজেলার জামতৈল এলাকার মো. ইমরান (২১), একই এলাকার আলমের ছেলে আকাশ (২১), নান্নু সরকারের ছেলে মো. আতিক (২৩), নাছিম উদ্দিন (২০) পিতা অজ্ঞাত এবং কর্ণসূতি গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হক নয়ন (২০)।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণকালে ওই কিশোরী চিৎকার কেউ যেন শুনতে না পায় এজন্য জোরে জোরে বক্সে গান বাজিয়ে রেস্টুরেন্টের গেইটে পাহারা দেয় বখাটে নাইম হোসেনের ওই পাঁচ বন্ধু।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগে করে বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন মতোই রোববার মাদ্রাসায় যায়। মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পরেও বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি করি। হঠাৎ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মুঠোফোনে কল দিয়ে জানায়, আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে সিরাজগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকের আছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ। পরে তাকে এম মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ওই বখাটেরা জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি এদের কঠিন শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক পার্থ সাহা জানান, ওই কিশোরীর বিশেষ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সেটি রিপেয়ার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বলা যায়, জোর করে শারীরিক সম্পর্কের কারণেই বিশেষ অঙ্গ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে সাংবাদিকরা ডেরা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গেলে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক রেস্টুরেন্টে আড্ডা দিচ্ছে। সাংবাদিক দেখে তারা উত্তেজিত হয়ে চড়াও হয়। পরে পুলিশ গিয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করে।
কামারখন্দ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল আকতার বলেন, আলামত সংগ্রহের জন্য রেস্টুরেন্টটি বিকেলে বন্ধ রাখা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, কিশোরীর মা বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।