Dhaka ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু ও বইপ্রেমীদের ঢল

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনপদ শাহজাদপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫ এপ্রিল দুপুর ১২ টায় শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ,শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, মোঃ মাহবুবুর রহমান মিলন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,মোঃ রায়হান আলী সরকার, সহযোগী অধ্যাপক, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ। মোঃ শাহ আলম, সহকারী অধ্যাপক শেরখালী মহিলা কলেজ। মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন, প্রধান শিক্ষক, বাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আরো উপস্থিত ছিলেন,মোঃ নাহিন খান সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কর্মী।

জান্নাতুল নাঈম, ইউনিট ইনচার্জ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা সহ স্থানীয় সুধীজন, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

দুপুর ১২টায় মেলার উদ্বোধনের পর থেকেই নানা বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতিতে মেলায় সৃষ্টি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ। কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মেলার ইনচার্জ জান্নাতুল নাঈম জানান, দ্বিতীয় দিন সোমবার (৬ এপ্রিল) চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ‘যেমন খুশি’, ‘গ্রামের দৃশ্য’, ‘ভাষা আন্দোলন’ এবং ‘জেলার ইতিহাস’। মেলার শেষ দিন মঙ্গলবার বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। মেলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকাশনার প্রায় ১০ হাজার বই প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত রয়েছেন। কেউ বই হাতে নিয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই পছন্দের বই কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেখে যেন মনে হচ্ছিল বইপ্রেমীদের মিলনমেলা।

মেলার এক বিক্রয়কর্মী জানান, বইয়ের নির্ধারিত মূল্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক, লিলি ইসলাম বলেন,
এ ধরনের বইমেলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ চোখে পড়ছে।”

৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম খাঁন জানায়, পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার সুযোগ কম। এখানে এসে বিভিন্ন বই দেখে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখানে এসে আরো নতুন নতুন অনেক বই সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আগামীকাল কিছু বই কিনব।”

মেলায় ঘুরতে আসা এক সন্তানের এক গৃহিণী , ফিদ্দা খাতুন বলেন“ শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়লে শিশুদের একঘেয়েমি তৈরি হয় এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তি বাড়ে। তাই তাদের বইমেলায় এনেছি, যাতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

মেলা আয়োজনে স্থানীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

তাড়াশে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

শাহজাদপুরে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু ও বইপ্রেমীদের ঢল

আপডেট সময়: ০৪:১৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জনপদ শাহজাদপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আয়োজনে এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী বইমেলা এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে। ৫ এপ্রিল দুপুর ১২ টায় শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ,শাহজাদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক, মোঃ মাহবুবুর রহমান মিলন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,মোঃ রায়হান আলী সরকার, সহযোগী অধ্যাপক, শাহজাদপুর সরকারি কলেজ। মোঃ শাহ আলম, সহকারী অধ্যাপক শেরখালী মহিলা কলেজ। মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন, প্রধান শিক্ষক, বাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আরো উপস্থিত ছিলেন,মোঃ নাহিন খান সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কর্মী।

জান্নাতুল নাঈম, ইউনিট ইনচার্জ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা সহ স্থানীয় সুধীজন, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

দুপুর ১২টায় মেলার উদ্বোধনের পর থেকেই নানা বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতিতে মেলায় সৃষ্টি হয়েছে প্রাণবন্ত পরিবেশ। কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মেলার ইনচার্জ জান্নাতুল নাঈম জানান, দ্বিতীয় দিন সোমবার (৬ এপ্রিল) চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে ‘যেমন খুশি’, ‘গ্রামের দৃশ্য’, ‘ভাষা আন্দোলন’ এবং ‘জেলার ইতিহাস’। মেলার শেষ দিন মঙ্গলবার বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। মেলায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রকাশনার প্রায় ১০ হাজার বই প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত রয়েছেন। কেউ বই হাতে নিয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই পছন্দের বই কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেখে যেন মনে হচ্ছিল বইপ্রেমীদের মিলনমেলা।

মেলার এক বিক্রয়কর্মী জানান, বইয়ের নির্ধারিত মূল্যের ওপর ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শাহজাদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক, লিলি ইসলাম বলেন,
এ ধরনের বইমেলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ চোখে পড়ছে।”

৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম খাঁন জানায়, পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার সুযোগ কম। এখানে এসে বিভিন্ন বই দেখে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখানে এসে আরো নতুন নতুন অনেক বই সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আগামীকাল কিছু বই কিনব।”

মেলায় ঘুরতে আসা এক সন্তানের এক গৃহিণী , ফিদ্দা খাতুন বলেন“ শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়লে শিশুদের একঘেয়েমি তৈরি হয় এবং মোবাইলের প্রতি আসক্তি বাড়ে। তাই তাদের বইমেলায় এনেছি, যাতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

মেলা আয়োজনে স্থানীয়ভাবে সার্বিক সহযোগিতা করেছে উপজেলা প্রশাসন।