Dhaka ০২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিইসির কাছে সাংবাদিক নীতিমালা দ্রুত সংশোধনের দাবি

নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যেন অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়তে না হয়—এমন দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নীতিমালার দ্রুত সংশোধন চেয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

আজ দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের হাতে একটি সুপারিশপত্র জমা দিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।
বৈঠকে বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক রাজা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ সংগঠন দুটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

সাংবাদিকদের উদ্বেগ

বৈঠক শেষে রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, নির্বাচন কাভার করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির বেশ কিছু ধারা সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “আমরা সাংবাদিক সমাজের মতামত ও অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিস্তারিত সুপারিশমালা তৈরি করেছি। তা আজ কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে। “ইসি কর্তৃক ইস্যুকৃত পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই,” যোগ করেন তিনি।

নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থানের সীমা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি।বিজেসি চেয়ারম্যান বলেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো কঠোর সময়সীমা নয়, বরং কেন্দ্রের জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সাধারণ নির্দেশনা মাত্র। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে এটি নয়।”

বৈঠকে সরাসরি সম্প্রচার ও দায়িত্বশীলতা
সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়। রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, “সাংবাদিকদের অবশ্যই দায়িত্বশীল থাকতে হবে যেন সম্প্রচারে ভোটগ্রহণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তবে অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের দায়িত্বই হবে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। এজন্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।”

সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রস্তাব

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, নীতিমালায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও হামলার বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে।“যেভাবে প্রার্থীদের আচরণবিধির ৯১ ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে, সেভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা উচিত,” বলেন তিনি। তিনি আরও যোগ করেন, “নীতিমালাটি শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে হবে। সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্র আরও নিরাপদ ও মুক্ত করতে আমরা এই প্রস্তাব দিয়েছি।”

বৈঠকে উপস্থিত ইসির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, “কমিশন আন্তরিকভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি ইসি মনে করে, সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

সাংবাদিক সমাজের মতে, নির্বাচন কাভারেজে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণের কাছে ভোটের প্রকৃত চিত্র পৌঁছানো সম্ভব নয়। সাংবাদিক সংগঠনগুলো আশা করছে, ইসি দ্রুত নীতিমালার সংশোধন এনে এটি গণমাধ্যমবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

সৎকারে বাধা, লাশ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভ

সিইসির কাছে সাংবাদিক নীতিমালা দ্রুত সংশোধনের দাবি

আপডেট সময়: ০৬:৪৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

নির্বাচন কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের যেন অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়তে না হয়—এমন দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নীতিমালার দ্রুত সংশোধন চেয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।

আজ দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের হাতে একটি সুপারিশপত্র জমা দিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)।
বৈঠকে বিজেসির চেয়ারম্যান রেজোয়ানুল হক রাজা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন, আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ সংগঠন দুটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

সাংবাদিকদের উদ্বেগ

বৈঠক শেষে রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, নির্বাচন কাভার করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য প্রণীত আচরণবিধির বেশ কিছু ধারা সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “আমরা সাংবাদিক সমাজের মতামত ও অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিস্তারিত সুপারিশমালা তৈরি করেছি। তা আজ কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করার যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে, তা সাংবাদিকদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে। “ইসি কর্তৃক ইস্যুকৃত পরিচয়পত্রই যথেষ্ট। আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার দরকার নেই,” যোগ করেন তিনি।

নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থানের সীমা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি।বিজেসি চেয়ারম্যান বলেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো কঠোর সময়সীমা নয়, বরং কেন্দ্রের জায়গার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় সাধারণ নির্দেশনা মাত্র। সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে এটি নয়।”

বৈঠকে সরাসরি সম্প্রচার ও দায়িত্বশীলতা
সরাসরি সম্প্রচার নিয়েও আলোচনা হয়। রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, “সাংবাদিকদের অবশ্যই দায়িত্বশীল থাকতে হবে যেন সম্প্রচারে ভোটগ্রহণে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তবে অনিয়ম, ভোটকেন্দ্র দখল বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের দায়িত্বই হবে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা। এজন্য কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রাখা সম্ভব নয়।”

সাংবাদিক নিরাপত্তার প্রস্তাব

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সভাপতি কাজী জেবেল বলেন, নীতিমালায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও হামলার বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করতে হবে।“যেভাবে প্রার্থীদের আচরণবিধির ৯১ ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে, সেভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ক্ষেত্রেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যুক্ত করা উচিত,” বলেন তিনি। তিনি আরও যোগ করেন, “নীতিমালাটি শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে হবে। সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্র আরও নিরাপদ ও মুক্ত করতে আমরা এই প্রস্তাব দিয়েছি।”

বৈঠকে উপস্থিত ইসির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রস্তাবগুলো গভীরভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।রেজায়োনুল হক রাজা বলেন, “কমিশন আন্তরিকভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করতে চায়। এমনকি ইসি মনে করে, সিসি ক্যামেরা না থাকলেও সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

সাংবাদিক সমাজের মতে, নির্বাচন কাভারেজে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণের কাছে ভোটের প্রকৃত চিত্র পৌঁছানো সম্ভব নয়। সাংবাদিক সংগঠনগুলো আশা করছে, ইসি দ্রুত নীতিমালার সংশোধন এনে এটি গণমাধ্যমবান্ধব ও বাস্তবসম্মত করবে।