Dhaka ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবার নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রী / সমস্যা সমাধানে নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ

সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। সেখানে নিজের চেম্বারে বসে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে রাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলার ভেনকনিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এখন বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইন শৃঙ্খলার ভিতরে থাকতে হবে। তাই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক সমস্যা আছে। মানুষকে বোঝাতে হবে। আমাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষকে ধৈর্য ধারণ করানো শিখাতে হবে, ধৈর্য ধারণে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বিকাল থেকেই। বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যা হয়, কষ্ট হয়, অসুবিধা হয় সেই কাজগুলো করা যাবে না। এখন এক নাম্বর কাজ হচ্ছে, এই রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে।
বিএনপির নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এরকম বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকলে তার পক্ষে দলীয় অফিসে আসা কষ্টকর উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমি যাতে অফিসে আসতে পারি এই রাস্তা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব। সহযোগিতা না থাকলে আমি অফিসে আসব না। আপনারা কি চান আমি অফিসে আসি?
এই সময়ে নেতা-কর্মীরা ‘হ্যাঁ’ সূচক স্লোগান দিলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে, পরিবেশটা নরমাল রাখতে হবে। আমি আরও দুই-একদিন অফিস আসব। যদি স্বাভাবিক দেখি তাহলে আমি আরও অফিসে আসব। কিন্তু এরকম রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান সবাইকে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। রাস্তা এরকম বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচলে বাধা বিঘ্ন দেওয়া যাবে না। অফিসে আসলে নেতাকর্মী সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করা সম্ভব হবে, সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব হবে।

পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী দোতলা থেকে নেমে নিজের গাড়িতে উঠেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্ধ্যা ৭টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে অফিস করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সঙ্গে কথা বলেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা দক্ষিন সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমূখ।

নেতা-কর্মীদের উপড়ে পড়া ভিড়, কড়া নিরাপত্তা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার পর পুরো নয়াপল্টন এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
সরেজমিনে পুরানা পল্টন, নাইটিঙ্গেল মোড় ও দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। নেতা-কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সড়কে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়ে আসবেন বলে সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যালয় এবং এর চারপাশে অবস্থান নেয়।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

তাড়াশে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

প্রথমবার নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রী / সমস্যা সমাধানে নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

আপডেট সময়: ০৬:৩৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করার তাগিদ

সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। সেখানে নিজের চেম্বারে বসে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে রাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত কয়েক হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দোতলার ভেনকনিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে এখন বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইন শৃঙ্খলার ভিতরে থাকতে হবে। তাই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক সমস্যা আছে। মানুষকে বোঝাতে হবে। আমাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষকে ধৈর্য ধারণ করানো শিখাতে হবে, ধৈর্য ধারণে তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বিকাল থেকেই। বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের সমস্যা হয়, কষ্ট হয়, অসুবিধা হয় সেই কাজগুলো করা যাবে না। এখন এক নাম্বর কাজ হচ্ছে, এই রাস্তাটা ক্লিয়ার করতে হবে।
বিএনপির নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এরকম বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকলে তার পক্ষে দলীয় অফিসে আসা কষ্টকর উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমি যাতে অফিসে আসতে পারি এই রাস্তা স্বাভাবিক রাখতে হবে। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব। সহযোগিতা না থাকলে আমি অফিসে আসব না। আপনারা কি চান আমি অফিসে আসি?
এই সময়ে নেতা-কর্মীরা ‘হ্যাঁ’ সূচক স্লোগান দিলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তাহলে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে, পরিবেশটা নরমাল রাখতে হবে। আমি আরও দুই-একদিন অফিস আসব। যদি স্বাভাবিক দেখি তাহলে আমি আরও অফিসে আসব। কিন্তু এরকম রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। যদি আমাকে পল্টন অফিসে দেখতে চান সবাইকে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। রাস্তা এরকম বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচলে বাধা বিঘ্ন দেওয়া যাবে না। অফিসে আসলে নেতাকর্মী সকলের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করা সম্ভব হবে, সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব হবে।

পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী দোতলা থেকে নেমে নিজের গাড়িতে উঠেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সন্ধ্যা ৭টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে অফিস করেছেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সঙ্গে কথা বলেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ঢাকা দক্ষিন সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমূখ।

নেতা-কর্মীদের উপড়ে পড়া ভিড়, কড়া নিরাপত্তা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার পর পুরো নয়াপল্টন এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
সরেজমিনে পুরানা পল্টন, নাইটিঙ্গেল মোড় ও দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। নেতা-কর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত’ স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব কটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সড়কে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী দলীয় কার্যালয়ে আসবেন বলে সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যালয় এবং এর চারপাশে অবস্থান নেয়।