Dhaka ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আসামিরা অধরা, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মামলা হলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এই নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সাংবাদিক নেতারা।

​উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার বালসাবাড়ী এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ হাইব্রিড সিল্ক সুতা গোপনে খালাস করা হচ্ছিল। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা এই অবৈধ পণ্যের সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে আলামিন জোয়াদ্দার ও মনিরুলসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলার শিকার হন কয়েকজন সংবাদকর্মী।

​হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উল্লাপাড়ার সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকরা কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
​স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
​এই হামলা কেবল সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও সত্যের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। অপরাধীরা কার ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

​সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকদের মতো একটি সংবেদনশীল পেশার মানুষের ওপর হামলার পর যদি পুলিশ এমন স্থবিরতা প্রদর্শন করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

​সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে উল্লাপাড়া থেকে শুরু করে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে অবস্থান ধর্মঘট ও কালো ব্যাজ ধারণের মতো কঠোর কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
​এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিক সমাজের এই যৌক্তিক দাবির মুখে প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সাংবাদিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, তারা সশরীরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার দেখতে চান।

ট্যাগ:
About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

​উল্লাপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: আসামিরা অধরা, পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকায় ফুঁসছে সাংবাদিক সমাজ

আপডেট সময়: ০৪:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মামলা হলেও দীর্ঘ সময়ে কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এই নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সাংবাদিক নেতারা।

​উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল উপজেলার বালসাবাড়ী এলাকায় ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ হাইব্রিড সিল্ক সুতা গোপনে খালাস করা হচ্ছিল। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আনা এই অবৈধ পণ্যের সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে আলামিন জোয়াদ্দার ও মনিরুলসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলার শিকার হন কয়েকজন সংবাদকর্মী।

​হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উল্লাপাড়ার সাংবাদিক সমাজ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকরা কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
​স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলাকারীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
​এই হামলা কেবল সাংবাদিকদের ওপর নয়, এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও সত্যের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। অপরাধীরা কার ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

​সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকদের মতো একটি সংবেদনশীল পেশার মানুষের ওপর হামলার পর যদি পুলিশ এমন স্থবিরতা প্রদর্শন করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়ে।

​সাংবাদিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা না হলে উল্লাপাড়া থেকে শুরু করে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এর মধ্যে অবস্থান ধর্মঘট ও কালো ব্যাজ ধারণের মতো কঠোর কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
​এখন দেখার বিষয়, সাংবাদিক সমাজের এই যৌক্তিক দাবির মুখে প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সাংবাদিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এখন আর কোনো মৌখিক আশ্বাস নয়, তারা সশরীরে অপরাধীদের গ্রেপ্তার দেখতে চান।