Dhaka ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার দাবিতে পদযাত্রা পুলিশের বাধায় পণ্ড বইমেলায় স্টল ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর দাবি

অমর একুশে বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার দাবি নিয়ে লেখক, প্রকাশক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের পদযাত্রা কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে। ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

পরে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে রওনা হন। যমুনার দিকে যেতে পুলিশ দুই দফায় এই পদযাত্রার মিছিল কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে লেখক, প্রকাশকদের ১০ সদস্যকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা প্রধান উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব সাব্বির আহমেদের হাতে স্মরকলিপি তুলে দেন।
এই স্মারকলিপিতে আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন এবং বইমেলায় স্টল বরাদ্দের ফি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার দাবি জানান।
শাহবাগের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লাল্টু। সমাবেশে বক্তৃতা করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সম্পাদক অধ্যাপক শহীদ আজাদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজচিন্তা ফোরামের কামাল হোসেন বাদল, ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশিদ, নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দীপা খন্দকার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পাদক জাকির হোসেন, কবি কৌমুদী নার্গিস।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হলে তারা বইমেলার দিনক্ষণ জানাবে। কিন্তু তাতে শঙ্কা কাটছে না প্রকাশকদের।
সমাবেশে ক্ষুব্ধ প্রকাশকরা বলেন, ‘২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। বাংলা একাডেমি একবার বলছে ডিসেম্বরে বই মেলা হবে; এখন বলছে ফেব্রুয়ারি হবে। কিন্তু কখন হবে, নির্বাচনের আগে না পরে তা নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছে না। বইমেলা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই বইমেলা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে দোদুল্যমানতার প্রকাশ ঘটে যা সরকার পরিচালনায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হিসাবে প্রতিভাত হয়।’
তারা বলেন, ‘একুশের বইমেলা এদেশের মানুষের স্বাধীকার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। একুশের বইমেলা যেনতেন একটি বইমেলা না। সুতরাং নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বইমেলা পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’
নির্বাচনের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে বইমেলার সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন লেখক, প্রকাশকরা। তারা বলেন, বইমেলায় পাঠকের উপস্থিতি কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করবে না।
১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার আয়োজন ও স্টলের ফি কমানো না হলে লেখ, প্রকাশকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলে সমাবেশে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ:
About Author Information

সর্বাধিক পঠিত

শাহজাদপুরে মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

ফেব্রুয়ারিতে বইমেলার দাবিতে পদযাত্রা পুলিশের বাধায় পণ্ড বইমেলায় স্টল ভাড়া ৫০ শতাংশ কমানোর দাবি

আপডেট সময়: ০৩:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

অমর একুশে বইমেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করার দাবি নিয়ে লেখক, প্রকাশক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের পদযাত্রা কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়েছে। ‘একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

পরে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে রওনা হন। যমুনার দিকে যেতে পুলিশ দুই দফায় এই পদযাত্রার মিছিল কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে লেখক, প্রকাশকদের ১০ সদস্যকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তারা প্রধান উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব সাব্বির আহমেদের হাতে স্মরকলিপি তুলে দেন।
এই স্মারকলিপিতে আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন এবং বইমেলায় স্টল বরাদ্দের ফি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার দাবি জানান।
শাহবাগের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লাল্টু। সমাবেশে বক্তৃতা করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, বৈষম্যবিরোধী সৃজনশীল গ্রন্থ প্রকাশক সমিতির সভাপতি সাঈদ বারী, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সম্পাদক অধ্যাপক শহীদ আজাদ, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজচিন্তা ফোরামের কামাল হোসেন বাদল, ভাসানী পরিষদের হারুন অর রশিদ, নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দীপা খন্দকার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্পাদক জাকির হোসেন, কবি কৌমুদী নার্গিস।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হলে তারা বইমেলার দিনক্ষণ জানাবে। কিন্তু তাতে শঙ্কা কাটছে না প্রকাশকদের।
সমাবেশে ক্ষুব্ধ প্রকাশকরা বলেন, ‘২০২৬ সালের বইমেলা নিয়ে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় তথা সরকার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। বাংলা একাডেমি একবার বলছে ডিসেম্বরে বই মেলা হবে; এখন বলছে ফেব্রুয়ারি হবে। কিন্তু কখন হবে, নির্বাচনের আগে না পরে তা নির্দিষ্ট করে জানাচ্ছে না। বইমেলা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই বইমেলা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে দোদুল্যমানতার প্রকাশ ঘটে যা সরকার পরিচালনায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হিসাবে প্রতিভাত হয়।’
তারা বলেন, ‘একুশের বইমেলা এদেশের মানুষের স্বাধীকার স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ। একুশের বইমেলা যেনতেন একটি বইমেলা না। সুতরাং নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বইমেলা পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’
নির্বাচনের পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে বইমেলার সময়সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেন লেখক, প্রকাশকরা। তারা বলেন, বইমেলায় পাঠকের উপস্থিতি কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করবে না।
১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার আয়োজন ও স্টলের ফি কমানো না হলে লেখ, প্রকাশকরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলে সমাবেশে জানানো হয়েছে।